By Sunil Mahato
অগ্নিকাণ্ডের ফলে পাওয়ার বিভ্রাট, শত শত ফ্লাইট বাতিল: একদিনের জন্য বন্ধ হল হিথ্রো বিমানবন্দর
ভূমিকা
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর হিথ্রো আজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, কারণ একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। আজ ভোরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার কারণে বিমানবন্দরের সমস্ত কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং শত শত ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়। ফলে হাজারো যাত্রী আটকা পড়েছেন এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।
এই প্রতিবেদনে হিথ্রো বিমানবন্দরের এই সংকটের কারণ, ফ্লাইট ও যাত্রীদের উপর প্রভাব, কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট
হিথ্রো বিমানবন্দরের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ ছিল একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ড। স্থানীয় সময় ভোর ৩:৩০ নাগাদ আগুন লাগে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে বিমানবন্দরের প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটে।
ক্ষতির মাত্রা
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এই আগুন বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে প্রভাবিত হয়েছে:
- ফ্লাইট তথ্য প্রদর্শন ব্যবস্থা: যাত্রী ও এয়ারলাইন্সের জন্য উড্ডয়ন ও অবতরণের তথ্য জানা কঠিন হয়ে পড়ে।
- নিরাপত্তা পরীক্ষা ও ব্যাগেজ পরিচালনা: দীর্ঘ সারি এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
- রানওয়ে লাইটিং ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল: সমস্ত উড্ডয়ন ও অবতরণ স্থগিত করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ তদন্তাধীন থাকলেও প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগকেই দায়ী করা হচ্ছে।
ফ্লাইট বাতিল ও যাত্রীদের দুর্ভোগ
এই ঘটনার ফলে হিথ্রো বিমানবন্দরে ৫০০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বহু বিমান সংযোগ ব্যাহত হয়েছে, এবং হাজার হাজার যাত্রী তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি।
যাত্রীদের অসন্তোষ ও ক্ষোভ
বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীরা তাদের হতাশা প্রকাশ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হন।
- একজন যাত্রী টুইট করেছেন, “হিথ্রোতে ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছি, কিন্তু কোনো আপডেট নেই। ফ্লাইটও নেই, খাবারও নেই, এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে কোনো সঠিক তথ্যও নেই।”
- আরেকজন লিখেছেন, “আমি নিউইয়র্কের ফ্লাইট মিস করেছি। এখন রাত কাটাতে হবে লন্ডনে। এই বিশৃঙ্খলার দায় কে নেবে?”
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর ওপর প্রভাব
হিথ্রো বিমানবন্দর ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার জন্য প্রধান ট্রানজিট হাব হওয়ায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওপরও বড় প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ (BA): লন্ডন থেকে উত্তর আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকা সংযোগকারী বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
- ভার্জিন আটলান্টিক: যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল।
- আমেরিকান এয়ারলাইনস, ডেল্টা, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস: হিথ্রোর উদ্দেশ্যে আসা অনেক ফ্লাইট অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছে।
বিভিন্ন ফ্লাইট গ্যাটউইক, স্ট্যানস্টেড ও ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক ও বাজারে প্রভাব
বিমান সংস্থা ও হিথ্রোর জন্য ক্ষতি
হিথ্রো বিমানবন্দরের এই অচলাবস্থার কারণে বিমান সংস্থাগুলো ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। ইইউ নিয়ম অনুযায়ী, বাতিলকৃত ফ্লাইটের জন্য যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যা কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত গড়াতে পারে।
শেয়ারবাজারে পতন
বিমান সংস্থাগুলোর শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মূল কোম্পানি IAG-এর শেয়ার ৩% কমে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে:
- লুফথানসা (-২.৫%)
- এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম (-২.৮%)
- ইজি জেট এবং রায়ানএয়ার (-১.৭%)
বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব
হিথ্রো বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত কার্গো পরিবহন কেন্দ্র, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ, ইলেকট্রনিক পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী পরিবাহিত হয়
.png)
Comments
Post a Comment