বেলুচিস্তানের বিদ্রোহ বাড়ছে: পাকিস্তানের দমননীতির মাঝে মোদী কি সমর্থন দেবেন?
ভূমিকা
বেলুচিস্তান আবারও আন্তর্জাতিক নজরে এসেছে সাম্প্রতিক বিদ্রোহ এবং সামরিক হামলার ফলে। সম্প্রতি, বেলুচ নেতারা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি সমর্থন চেয়ে তাদের স্বাধীনতার লড়াইকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনা এমন এক সময় ঘটছে, যখন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (BLA) এবং অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক আক্রমণ চালাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে একটি ট্রেন ছিনতাই ও শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করার ঘটনা (Balochistan train hijack: Who are the Baloch rebels and why do they want independence from Pakistan)।
বিদ্রোহের নতুন মাত্রা
২০২৫ সালের ১১ই মার্চ, বেলুচ লিবারেশন আর্মির যোদ্ধারা কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটি অপহরণ করে। তারা রেলপথ উড়িয়ে ট্রেনটিকে থামিয়ে দেয় এবং তাতে গুলি চালায়, যার ফলে শতাধিক যাত্রী জিম্মি হয়ে পড়েন। বিদ্রোহীরা কিছু সাধারণ যাত্রীকে মুক্তি দিলেও পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের আটক করে রাখে এবং বেলুচ রাজবন্দীদের মুক্তির দাবি জানায় (Balochistan train hijack: Who are the Baloch rebels and why do they want independence from Pakistan)।
পাকিস্তানি সেনা দ্রুত একটি উদ্ধার অভিযান চালায়, যেখানে ২৭ জন বিদ্রোহী নিহত হয় এবং ১৫৫ জন যাত্রীকে মুক্ত করা হয়। তবে BLA দাবি করেছে যে তারা ৩০ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে এবং ২১৪ জনকে আটক করেছে। এই ধরণের বড় আকারের অপহরণ ও জিম্মি পরিস্থিতি বেলুচ বিদ্রোহীদের লড়াইয়ে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে (OPINION | Will Balochistan break away from Pakistan? | India News – India TV)।
বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার সংগ্রাম
বেলুচিস্তান কয়েক দশক ধরে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার বেলুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করছে এবং সেখানকার জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাজার হাজার বেলুচ কর্মী ও সাধারণ নাগরিক গুম হয়েছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন, এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে (‘If the Baloch Declare Separation, People Will Support Them’: Maulana Fazlur Rehman | The Balochistan Post)।
বেলুচিস্তানের বেশিরভাগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী বিশেষ করে চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (CPEC) প্রকল্পের বিরুদ্ধে সক্রিয়। চীনের সহায়তায় নির্মিত গ্বাদার বন্দর বেলুচদের জন্য বড় ধরনের বঞ্চনার প্রতীক হয়ে উঠেছে, যেখানে স্থানীয় জনগণের বদলে বহিরাগতরা অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে। এর ফলে চীনা প্রকল্পগুলির উপরও বিদ্রোহীরা হামলা চালাচ্ছে (Balochistan train hijack: Who are the Baloch rebels and why do they want independence from Pakistan)।
মোদীর সমর্থনের আহ্বান
সম্প্রতি বেলুচ নেতারা ভারত এবং বিশেষত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৬ সালে ভারতের স্বাধীনতা দিবসে মোদী বেলুচিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, যা বেলুচ আন্দোলনের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল (‘If the Baloch Declare Separation, People Will Support Them’: Maulana Fazlur Rehman | The Balochistan Post)।
একটি অংশ বিশ্বাস করে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকাকে সামনে রেখে বেলুচদের ক্ষেত্রেও ভারত সমর্থন জানাতে পারে। তবে ভারত সরকার এখন পর্যন্ত বেলুচ ইস্যুতে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরেছে (OPINION | Will Balochistan break away from Pakistan? | India News – India TV)।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তান বরাবরই ভারতকে বেলুচিস্তানের বিদ্রোহীদের মদত দেওয়ার অভিযোগ করে এসেছে। সাম্প্রতিক ট্রেন অপহরণের পর পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আবারও দাবি করেছেন যে বিদেশি শক্তির সমর্থন ছাড়া এই ধরণের বড় হামলা সম্ভব নয়। যদিও তারা এই অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি (Balochistan train hijack: Who are the Baloch rebels and why do they want independence from Pakistan)।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বেলুচিস্তানে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বেলুচ বিদ্রোহীরা বলছে যে এই দমননীতি বিদ্রোহ আরও তীব্র করবে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে পাকিস্তানের প্রতি অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলবে (‘If the Baloch Declare Separation, People Will Support Them’: Maulana Fazlur Rehman | The Balochistan Post)।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বেলুচিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা পাকিস্তানকে সামরিক দমননীতির পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বড় শক্তিগুলি এখনো বেলুচ ইস্যুতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে চায় না। বিশেষত চীনের ব্যাপক বিনিয়োগ থাকায় পাকিস্তানকে চাপে ফেলতে কোনো দেশই এখনো আগ্রহী নয়।
উপসংহার
বেলুচিস্তানে বিদ্রোহী কার্যকলাপ এবং সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। বিদ্রোহীদের আন্তর্জাতিক সমর্থনের আহ্বান, বিশেষ করে ভারতের প্রতি তাদের আশা, পাকিস্তানের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
তবে ভারত এই সংকটে সরাসরি ভূমিকা নেবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেলুচ ইস্যু আরও গুরুত্ব পাবে কি না, তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। কিন্তু এটি স্পষ্ট যে, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বেলুচিস্তান এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
.png)
Comments
Post a Comment